
মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার।
গাজীপুর কালিয়াকৈর থানার সামনে এক নারীকে অনুসরণ করে অশ্লীল কথাবার্তা, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে।
৩ সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
অভিযোগকারী মোছাম্মৎ নুপুর আক্তার (৪১) কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সেন্টু মিয়া (৪৫) টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার কড়াইখালী এলাকার মৃত মধু খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় মৌচাক এলাকায় বসবাস করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেন্টু মিয়া একসময় নুপুর আক্তারের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। তার স্বভাব-চরিত্র নিয়ে আপত্তি থাকায় তাকে কাজ থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নুপুর আক্তারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রায় ছয় মাস ধরে নুপুর আক্তারকে রাস্তাঘাটে দেখলেই সেন্টু মিয়া অশালীন কথাবার্তা বলে বিরক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নুপুর আক্তার কালিয়াকৈর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মৌচাক থেকে রওনা হন। এ সময় সেন্টু মিয়া তার পিছু নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে কালিয়াকৈর থানার সামনে সড়কে বাস থেকে নামার সময় অভিযুক্ত তাকে দেখতে পান। এ সময় তিনি কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন এবং নুপুর আক্তারকে খারাপ প্রস্তাব দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নুপুর আক্তার এর প্রতিবাদ করলে সেন্টু মিয়া তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় আশপাশের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সেন্টু মিয়াকে আটক করেন। পরে তাকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে পরবর্তীতে থানায় এসে এজাহার দায়ের করায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সেন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিয়াকৈর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন নুপুর আক্তার।
এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন