
চয়ন কুমার রায়
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট:লালমনিরহাটে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার হারিয়ে যাওয়া চেক বইয়ের পাতা জালিয়াতি করে ২৪ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে একটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ (লালমনিরহাট) মামলাটি আমলে নিয়ে জালিয়াতির সত্যতা উন্মোচনে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) সরজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন (মামলা নম্বর- সি.আর. ৬৫১/২০২৬)। মামলার বিবরণ ও আরজি সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম মনির বেতন উত্তোলনের রূপালী ব্যাংক (লালমনিরহাট কর্পোরেট শাখা) অ্যাকাউন্টের একটি চেক বই গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে হারিয়ে যায়। চেক বই হারানোর পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি ব্যাংকে লিখিতভাবে ওই চেকের পাতাগুলোর বিপরীতে ‘স্টপ পেমেন্ট’ বা অর্থ প্রদান স্থগিতের স্পষ্ট আবেদন জানান ।কিন্তু গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ওই হারিয়ে যাওয়া চেকের একটি পাতা (নম্বর: SBLS ১৫৬২৩১৪) অবৈধভাবে সংগ্রহ করে জালিয়াতির চূড়ান্ত রূপ দেয় একটি প্রতারক চক্র। মামলার ১নং ও প্রধান আসামি— মেহেদী হাসান সম্পদ, পিতা- আহাদুল ইসলাম, মাতা- মৌসুমী আক্তার শীমু, সাং- তুষভান্ডার, থানা- কালীগঞ্জ, জেলা- লালমনিরহাট। এই মেহেদী হাসান শিক্ষিকার ওই হারানো চেকে অবৈধভাবে নিজের ইচ্ছামতো ২৪,০০,০০০/- (চব্বিশ লক্ষ) টাকা বসিয়ে রূপালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দেন। তবে শিক্ষিকা পূর্বেই ‘স্টপ পেমেন্ট’ দিয়ে রাখায় এবং অ্যাকাউন্টে এই বিপুল পরিমাণ টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি আটকে দেয় এবং ওই দিনই (৪ আগস্ট ২০২৬) ‘স্টপ পেমেন্ট ও অপর্যাপ্ত তহবিল’ (Insufficient Fund) উল্লেখ করে চেক ফেরত স্মারক (ডিজঅনার স্লিপ) প্রদান করে।
বাদী পক্ষের দাবি, অভিযুক্ত আসামির সাথে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার কোনো ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক লেনদেনের দূরতম সম্পর্কও ছিল না । অন্যের হারিয়ে যাওয়া চেক অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা সম্পূর্ণ জালিয়াতি, প্রতারণা ও দণ্ডবিধির গুরুতর অপরাধ। বিজ্ঞ আদালত বাদীর প্রাথমিক জবানবন্দি রেকর্ড করে দণ্ডবিধি আইনের ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৯ই ডিসেম্বর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য লালমনিরহাট সিআইডি (CID)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই জালিয়াতি ও জেনেশুনে অবৈধ চেক ব্যবহারের অপরাধের বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের সাথে স্থানীয় সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আপনাকে কিছু বলবো না, যা বলার কোর্টেই বলবো।”
মামলার বাদী শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগম মনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমার থানার জিডি, পত্রিকার কাটিং এবং রূপালী ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ডকুমেন্টস সম্পূর্ণ স্পষ্ট। আসামিরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আমার হারানো চেকটি ব্যবহার করে এই প্রতারণা করেছে । আমি আশাবাদী সিআইডির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে এই জালিয়াতি চক্রের আসল চেহারা উন্মোচিত হবে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামির কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে।”
মন্তব্য করুন