
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী(অতিরিক্ত দায়িত্ব) বাবুল হোসেন-কে ঘুষ না দেওয়ায় বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দ থাকার পরেও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ৪ জন কর্মচারীর মঞ্জুরকৃত শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বিল পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। শেষে জুন/২৬ ফাইনালের পর বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যায়। ভুক্তভোগী কর্মচারীগণ কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে এই বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোন ফল পায়নি। উল্টো চলতি অর্থবছরে উক্ত শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বিল ঘুষ দিয়েই নিতে হলো ভুক্তভোগী কর্মচারীগণকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কর্তৃপক্ষ তথা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহমেদ (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা) এর প্রত্যক্ষ প্রত্যক্ষভাবে বরাদ্দ আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দিতে হবে বলে জনপ্রতি ১,০০০/- টাকা করে ১৯ জনের এই ঘুষের টাকা তোলা হয়েছে। অভিযোগ আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রধান সহকারী কর্তৃক হয়রানির শিকার খারাপ আচরন হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে কথা বলতে গেলেই তিনি প্রধান সহকারীকে ম্যানেজ করতে বলেন, আর প্রধান সহকারী ঘুষ ছাড়া ম্যানেজ হয় না। তাহলে কি এই ঘুষের টাকার ভাগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও পান, সচেতন মহলের প্রশ্ন।
ইতিপূর্বে প্রধান সহকারী বাবুল হোসেন এর ঘুষ গ্রহন, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানী হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বাক্ষর করে মাননীয় সংসদ সদস্য, ঠাকুরগাঁও-৩ মহোদয়ের সুপারিশ/নির্দেশনা তথ্য সহ পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা,বরাবরে প্রেরণ করা করেন। (১) ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন, (২) রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)( ৩) উপ পরিচালক শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা (৫) মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা এমনকি (৬) সচিব,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এদিকে দিনের পর দিন প্রধান সহকারীর অপকর্ম বেড়েই চলছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহমেদ প্রত্যক্ষভাবে তার এইসব অপকর্মে সমর্থন ও সহযোগিতা করছেন। ইহা ছাড়াও স্টেশনারি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী নামমাত্র ঠিকাদার কার্যক্রম চালায় ডাঃ কামাল আহমেদ মোটা অংকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে ট্রেজারি সুত্রে জানা যায়।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহমেদ ও সাময়িক আদেশে থাকা প্রধান সহকারী বাবুল হোসেনের এইরূপ কর্মকাণ্ড হতে রক্ষা পেতে চায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মকর্তাসহ ভুক্তভোগী কর্মচারীগণ।
তবে এই যদি হয় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র, তাহলে এই উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে সচেতন মহল আশঙ্কা করছেন এবং সর জমিনে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন
মন্তব্য করুন