
,
ইয়াসিন আহমেদ ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ১৮ মাস বয়সী শিশু মারিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় গত ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামে তুচ্ছ জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হুমায়ূন কবিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় । আসমা খাতুন তার স্বামী মাইনুদ্দীন ছেলে তারিফ হোসেন।
এ সময় ঘুমিয়ে ছিল ছিল শিশু মারিয়া আসমা খাতুনের আঘাতে শিশু মারিয়ার মাথার পেছনে গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার পর মারিয়াকে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারিয়াকে প্রথমে শিশু সার্জারি বিভাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তাকে পুনরায় নিউরোসার্জারি বিভাগের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে এমআরআই পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর জখমের বিষয়টি ধরা পড়ে। এমআরআই প্রতিবেদনে মস্তিষ্কের পেছন ও ওপরের অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে মারিয়ার খিঁচুনি শুরু হয়, চোখ উল্টে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১৬ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে মারিয়ার মৃত্যু হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতটুকু নিষ্পাপ শিশুকে হত্যার ঘটনায় হত্যার পর এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে না পারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, শিশু মারিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে শোকাহত করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পরে ফুলপুর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মূহাম্মদ ফিরোজ হোসেন উপস্থিত হয়ে সকল কে আশ্বস্থ করে বলেন পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে অচিরেই তাদের কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের কাছ থেকে এমন আশ্বাষ পেয়ে মানববন্ধন সমাপ্ত ঘোষণা করে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, আসামিদের গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মারিয়ার বাবা হুমায়ুন কবির।
মারিয়ার মা নিপা আক্তার ওয়াসিমুল ইসলাম, আনিছুর রহমান নয়ন সহ প্রমূখ।
মারিয়ার বাবা হুমায়ূন কবির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দেড় বছরের মেয়েটার কী অপরাধ ছিল? সে তো পৃথিবীর কিছুই বোঝে না।” তাহলে কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো, আমার সব কিছুর বিনিময়ে সন্তান হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
মারিয়ার মা বলেন, “আমার বাচ্চাটা আহত হওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করেছে। ঠিকমতো খেতে পারত না। খেতে গেলেই খিঁচুনি হতো। চোখের সামনে সন্তানকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে হারালাম। আমি এর বিচার চাই, যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।”
তবে আসামীদের সকলেই পলাতক, তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না
শিশু মারিয়ার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন