
মোমিন আলি লস্কর
জয়নগর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার অন্তর্গত জয়নগর-১ ব্লকের বামনগাছি অঞ্চলের দলুয়াখাকী গ্রামের লস্করপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। শীত হোক কিংবা বর্ষা, গরম হোক কিংবা অন্য কোনও ঋতু—সারা বছরই জলকষ্ট যেন এই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, এমনকি ভোটের আগের দিনও এলাকার পানীয় জলের সমস্যার কথা পঞ্চায়েত সদস্য, বিধায়ক এবং বিডিও-কে ফোন মারফত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ভোট আসে, ভোট যায়। মানুষের পদ বদলায়, জনপ্রতিনিধি বদলায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন একই থেকে যায়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যে জল মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন, সেই পানীয় জলের সমস্যার সমাধানে এতটা দীর্ঘসূত্রিতা কেন? *২৩০ নম্বর বুথে একাধিক অভিযোগ*
দলুয়াখাকী গ্রামের ২৩০ নম্বর বুথের লস্করপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। কোথাও টিউবওয়েল থাকলেও সেখান থেকে জল পাওয়া যায় না, আবার কোথাও সাবমার্সিবল বসানো হলেও সেটি এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, হাফেজ আব্দুর রহমান লস্করের বাড়ির কাছে একটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেই টিউবওয়েল থেকে এখনও পর্যন্ত লস্করপাড়ার মানুষ নিয়মিত জল পাচ্ছেন না।
এছাড়াও দলুয়াখাকী স্কুল মাঠের কাছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একটি সাবমার্সিবল বসানো হলেও সেটির জল এখনও ব্যবহার করতে পারছেন না বলে অভিযোগ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের।
অন্যদিকে সালাম লস্করের বাড়ির কাছেও একটি টিউবওয়েল রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু সেটিও কার্যত মানুষের কাজে আসছে না বলে অভিযোগ। *জলের পাশাপাশি আলোর সমস্যাও*
শুধু পানীয় জল নয়, এলাকায় আলোর ব্যবস্থার অভাব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলুয়াখাকী গ্রামের লস্করপাড়ায় পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা নেই। এমনকি দলুয়াখাকী-বামনগাছি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরেও সরকারি আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে দাবি।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৩০ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্যা মোরছেলিম লস্কর নিজের পাড়ার আশপাশে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পোস্টে হ্যালোজেন লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এবং নিজের পাড়ায় জলের সমস্যার জন্য সাবমার্সিবল বসিয়েছেন। কিন্তু লস্করপাড়ার অন্য অংশের মানুষ এখনও একই সমস্যায় রয়েছেন বলে অভিযোগ। *টিউবওয়েল যখন মানুষের নয়, ছাগলের খোঁটা!*
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর চিত্রটি ধরা পড়েছে একটি টিউবওয়েলকে ঘিরে। যে টিউবওয়েল মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তৈরি, সেই টিউবওয়েলই আজ ছাগল বাঁধার খোঁটা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমনই ছবি সামনে এসেছে।
এই ছবি যেন গোটা এলাকার জল সমস্যার একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্যের কাছেও সমস্যার কথা জানানো হলে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁদের। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
📢 *প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর আবেদন*
পানীয় জল কোনও বিলাসিতা নয়—এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই দলুয়াখাকী গ্রামের লস্করপাড়ার দীর্ঘদিনের জলকষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।
মানুষের দাবি একটাই—ভোটের সময় নয়, সারা বছরই যেন তাঁদের কথা শোনা হয়। প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
মন্তব্য করুন