
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান ছিনতাই ও আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর ওরফে আব্বুয়া (৩০) নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে মোক্তার কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুজনই হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের একটি চালান ছিনতাই এবং এর একটি অংশের সন্ধান না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ইলিয়াসের দাবি, আটজন মিলে একটি মাদকের চালান চেকপোস্ট পার করে অন্য একটি গ্রুপের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথে সেটি ছিনতাই হয়। চালানটিতে আনুমানিক এক লাখ ইয়াবা ছিল। পরে এর ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হলেও বাকি ৩০ হাজার ইয়াবার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই অংশ আত্মসাতের অভিযোগ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
ইলিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। অন্যরা আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ইয়াবা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পানখালী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আহত আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মাদকের চালান আত্মসাৎ ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন