
তাপস চন্দ্র সরকার।।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির আবহে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আলোচনা সভা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, কর্ম, দর্শন, মানবকল্যাণের বাণী এবং ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৭ নম্বর হলরুমে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ সহিদ উল্লাহ। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার ও ট্রেজারার এডভোকেট আবু মুছা ভূঁঞা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মিথিলা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাদুর রহমান শেখ এবং জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ কাইমুল হক রিংকু। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য্য। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহ পিন্টু ও মোহাম্মদ ইসমাইল ও সাবেক জেলা গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ।
ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমিতির রিক্রিয়েশন সেক্রেটারি এডভোকেট মোঃ সাইফুর রহমান সায়েম।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন, কর্ম ও দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের বাণী শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়, মানবতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও কল্যাণের এক অনন্য দিকনির্দেশনা। শ্রীকৃষ্ণের অমর বাণী ‘যখনই ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আবির্ভূত হই’ মানবসমাজে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ মানুষকে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও বিভেদ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা আরও জোরদার করতে শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার এমন চেতনায় একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় পুরো আয়োজনজুড়ে এক আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আদালত অঙ্গনের বিচারক, আইনজীবী এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। এ সময় কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে কর্মরত অন্যান্য বিচারক ও বিজ্ঞ আইনজীবীগণ, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং কুমিল্লার বিভিন্ন সনাতনী ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় প্রতিফলিত হয়। শ্রীকৃষ্ণের মানবতাবাদী দর্শন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেতনাকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, কল্যাণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভাটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।
মন্তব্য করুন